শোকগাথা
Elegidia
ভূমিকা
প্রাচীন যুগ থেকে যে-নারীর লাতিন পদ্য টিকে আছে, সুলপিসিয়া তাঁদের একমাত্র। খ্রিস্টপূর্ব ২০ অব্দের কাছাকাছি সময়ে লেখা তাঁর ছয়টি সংক্ষিপ্ত এলিজি টিকে আছে তিবুল্লাসের সংকলনের তৃতীয় বইয়ের ভেতরে ([Tibullus] ৩.১৩–১৮), এবং সেই কারণেই এখানে শাখা-সংখ্যা ১৩ থেকে ১৮ পর্যন্ত রক্ষা করা হয়েছে — এই সংখ্যাই এই কবিতাগুলির প্রামাণ্য উদ্ধৃতি-চিহ্ন। কবি ছিলেন বিখ্যাত আইনজ্ঞ সের্ভিয়ুস সুলপিসিয়ুস রুফুসের কন্যা এবং মহান পৃষ্ঠপোষক মেসাল্লা কোর্ভিনুসের অভিভাবকত্বে-থাকা এক পাত্রী; প্রথম পুরুষে তিনি লিখেছেন সেরিন্থাস নামে ডাকা এক তরুণের সঙ্গে তাঁর প্রণয়ের কথা — সেরিন্থাস একটি গ্রিক ছদ্মনাম, এলিজি-রীতির প্রথা অনুসারে।
এই ছয়টি কবিতা একজন প্রকৃত রোমান নারীর কামনার কণ্ঠস্বর, এবং সেই কণ্ঠ যেভাবে সামাজিকভাবে উন্মুক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ, পুরুষের প্রেম-এলিজিতে তা কখনও হয় না। সংকলনটি শুরু হয় (৩.১৩) এক আশ্চর্য ঘোষণায়: নারী নিজের তৃপ্তির কথা জানাচ্ছেন এবং খ্যাতির খাতিরে তা ঢেকে রাখতে অস্বীকার করছেন — তিনি বরং প্রেমকে "উন্মুক্ত" করার অপবাদ নেবেন, কিন্তু "ঢেকে" রাখবেন না। শেষ চরণ — "বলা হোক, যোগ্য আমি ছিলাম যোগ্যের সঙ্গে" — কোনো স্বীকারোক্তি নয়, একটি অহংকার। *pudor* ও *fama* (লজ্জা, খ্যাতি, লোকে-কী-বলবে) এই কবিতাগুলির চাপ-ব্যবস্থা, এবং সুলপিসিয়া সেই চাপকেই প্রতিহত করছেন।
লক্ষণীয়, ছয়টি কবিতার ভেতরে দুটি ভিন্ন স্তর কাজ করে। ৩.১৩ থেকে ৩.১৫ তুলনামূলকভাবে স্বচ্ছ — ইশতেহার, জন্মদিনে আরেতিয়ুমের ঠান্ডা পল্লি-বাড়িতে যেতে-হওয়ার বিরক্তি, আর সেই যাত্রা বাতিল হওয়ার স্বস্তি। কিন্তু ৩.১৬ থেকে ৩.১৮ জটিল, বাক্যগঠনে ঘন ও যেন-আঁটোসাঁটো: ৩.১৬-তে পশমের-ঝুড়ি-বওয়া নীচু প্রতিদ্বন্দ্বিনীকে নিয়ে ঈর্ষা, যেখানে সুলপিসিয়া নিজের পিতৃকুলের গর্ব — "সের্ভিয়ুসের কন্যা" — সেই হীন নারীর বিরুদ্ধে দাঁড় করান; ৩.১৭-তে জ্বরের ভেতরে প্রেমিকের নির্লিপ্ততার প্রতি তিরস্কার; আর ৩.১৮ একটিমাত্র দীর্ঘ, নিজেকে-শোধরানো শর্তবাক্য — এক নিঃশ্বাসে ধরে-রাখা এক অনুতাপ, যা এই অনুবাদে তিন-চরণে না-ভেঙে একক টানা বাক্য হিসেবেই রাখা হয়েছে।
দেবতাদের রোমান নামেই রাখা হয়েছে — কামেনা (সুলপিসিয়ার মিউজ), সিথেরিয়া ও ভেনাস — কোনো আধুনিকীকরণ বা ধর্মান্তর ছাড়াই। ৩.১৬-এর *toga* এখানে নাগরিকের পোশাক নয়, বেশ্যার বেশ, এবং *quasillum* (পশমের ঝুড়ি) দাসী বা নীচু নারীর চিহ্ন — এই বর্গ-অহংকার ও অবজ্ঞার তীক্ষ্ণতা কবিতার ভেতরেই পাঠযোগ্য। যা পড়ার সময় খেয়াল রাখবেন: এই কণ্ঠ কখনও কুণ্ঠিত নয়। সুলপিসিয়া নিজের "পাপ" স্বীকার করছেন না — তিনি তা দখল করছেন, গর্বের সঙ্গে।
লজ্জা বলে গণ্য হবে, উন্মুক্ত করাকে নয়, আমার কাছে খ্যাতির চেয়েও বড়।
আমার কামেনাদের প্রার্থনায় বশীভূত হয়ে সিথেরিয়া
তাকে এনে দিলেন, রাখলেন আমার বুকের কোলে।
ভেনাস তাঁর প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করলেন: আমার আনন্দের কথা সে-ই বলুক,
যে বলবে, নিজের বলে কিছুই তার ছিল না।
সিলমোহর-আঁটা কোনো ফলকে আমি কিছু লিখে পাঠাতে চাই না,
পাছে আমার প্রিয়র আগে আর কেউ তা পড়ে ফেলে;
বরং পাপ করে সুখ পাই, খ্যাতির জন্য মুখ সাজাতে
ঘৃণা লাগে: বলা হোক, যোগ্য আমি ছিলাম যোগ্যের সঙ্গে।
quam nudasse alicui sit mihi fama magis.
Exorata meis illum Cytherea Camenis
attulit in nostrum deposuitque sinum.
Exsoluit promissa Venus: mea gaudia narret,
dicetur si quis non habuisse sua.
Non ego signatis quicquam mandare tabellis,
ne legat id nemo quam meus ante, uelim,
sed peccasse iuuat, uultus componere famae
taedet: cum digno digna fuisse ferar.
পল্লিতে, সেরিন্থাসকে ছাড়া, বিষণ্ন মনে।
শহরের চেয়ে মধুর কী আছে? মেয়ের পক্ষে কি মানায়
সেই বাগানবাড়ি আর আরেতিয়ুম-খেতের ঠান্ডা নদী?
এবার, মেসাল্লা, আমার জন্য বড় বেশি উদ্বিগ্ন তুমি, একটু জিরোও;
হে আত্মীয়, সব সময় যাত্রা প্রাসঙ্গিক নয়।
এখান থেকে টেনে-নিয়ে-যাওয়া আমি রেখে যাই আমার মন আর অনুভূতি
আমার নিজের ইচ্ছায়, যদিও তুমি তা হতে দাও না।
et sine Cerintho tristis agendus erit.
Dulcius urbe quid est? An uilla sit apta puellae
atque Arretino frigidus amnis agro?
Iam, nimium Messalla mei studiose, quiescas;
non tempestiuae saepe, propinque, uiae.
Hic animum sensusque meos abducta relinquo
arbitrio, quamuis non sinis esse, meo.
এবার রোমে থাকা যাবে, তোমার জন্মদিনে।
আমাদের সকলের কাছে সেই দিনটাই জন্মদিন হয়ে উঠুক,
যা তোমার কাছে এখন এল অপ্রত্যাশিতভাবে, দৈবক্রমে।
Natali Romae iam licet esse tuo.
Omnibus ille dies nobis natalis agatur,
qui nec opinanti nunc tibi forte uenit.
নিজেকে অনুমতি দিচ্ছ, পাছে হঠাৎ আমি বোকার মতো পড়ে না যাই।
তোমার কাছে বরং প্রিয় হোক টোগা আর পশমের ঝুড়িতে-চাপা
সেই বেশ্যা, সের্ভিয়ুসের কন্যা সুলপিসিয়ার চেয়ে:
তারাই আমার জন্য উদ্বিগ্ন, যাদের কাছে এটাই সবচেয়ে বড় বেদনা —
পাছে আমি নত হই কোনো অজানা, অযোগ্য শয্যার কাছে।
যখন এখন জ্বরে দগ্ধ হচ্ছে আমার ক্লান্ত দেহ?
আহা, এই বিষণ্ন ব্যাধিকে জয় করতে আমি অন্যভাবে
চাইতাম না — যদি না ভাবতাম, তুমিও তা চাও।
কিন্তু ব্যাধি জয় করে আমার কী লাভ, যদি তুমি
নির্লিপ্ত বুকে সইতে পারো আমার এই যন্ত্রণা?
quod mea nunc uexat corpora fessa calor?
A ego non aliter tristes euincere morbos
optarim, quam te si quoque uelle putem.
At mihi quid prosit morbos euincere, si tu
nostra potes lento pectore ferre mala?
বিষয় না হই, যেমন ক-দিন আগেও ছিলাম বলে মনে হয় —
যদি আমার এই সমস্ত তারুণ্যে বোকার মতো কিছু করে থাকি,
যার জন্য অনুতাপ আমি স্বীকার করব আরও বেশি করে
সেই কালকের রাত্রির তুলনায়, যখন তোমাকে একলা রেখে চলে গেলাম,
আমার এই আগুন লুকিয়ে রাখতে চেয়ে।
ac uideor paucos ante fuisse dies,
si quicquam tota commisi stulta iuuenta
cuius me fatear paenituisse magis,
hesterna quam te solum quod nocte reliqui,
ardorem cupiens dissimulare meum.